এশিয়ার স্পট মার্কেটে কমেছে এলএনজির দাম

এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম চলতি সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মজুদ ও নিম্নমুখী চাহিদা পণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

এশিয়ার স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম চলতি সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত মজুদ ও নিম্নমুখী চাহিদা পণ্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় মার্চে সরবরাহের জন্য চলতি সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১৩ ডলার ৯০ সেন্ট। গত সপ্তাহে জ্বালানি পণ্যটি এমএমবিটিইউয়ে ১৪ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে।

ডাটা ও বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের বিশ্লেষক গো কাটায়ামা বলেন, ‘‌চলতি সপ্তাহে দাম কিছুটা কমার কারণ হলো এশিয়ার দুর্বল চাহিদা। ঠাণ্ডা আবহাওয়া সত্ত্বেও আমদানি কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোয় স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় তাপমাত্রা উষ্ণ থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। তাই এ অঞ্চলে সামনের সপ্তাহগুলোয়ও এলএনজির মূল্য কমতে পারে। এছাড়া মজুদের ভারসাম্যও মূল্যহ্রাসের উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।’

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক দেশ জাপান। দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয়ের ডাটা অনুযায়ী, প্রধান বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোয় ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত পণ্যটির মজুদ ২১ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছে। এটি পাঁচ বছরের গড় ১৯ লাখ ৬০ হাজার টনের তুলনায় বেশি। তাই জাপান এলএনজি আমদানি কিছুটা কমাতে পারে বলে ধারণা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘এশিয়ার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলেও চাহিদা দুর্বল ছিল। কারণ বর্তমান দামের প্রবণতা ভারত ও চীনের মতো মূল্য সংবেদনশীল ক্রেতাদের জন্য খুব বেশি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এশিয়ার নিম্নমুখী চাহিদার কারণে গত সপ্তাহে আটলান্টিক মহাসাগর পথে অন্তত ছয়টি কার্গো এশিয়ার পরিবর্তে ইউরোপে পাঠানো হয়েছে।’

এদিকে ইউরোপের দেশগুলোয় চলতি সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী ছিল এলএনজির বাজারদর। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে তুর্কস্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইনে পরিবহনসংক্রান্ত উদ্বেগ, আজারবাইজানের শাহ ডেনিজ ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ ও রাশিয়ার দুটি রফতানি টার্মিনালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে ঠাণ্ডা তাপমাত্রার পূর্বাভাসও পণ্যটির দাম বাড়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

পিজেড-এনার্জির প্রধান অর্থনীতি বিশ্লেষক হান্স ভ্যান ক্লিফ বলেন, ‘এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে এলএনজির চাহিদা বেড়েছে। তাই আমদানি ও মজুদ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।’

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার মার্চের সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে ১৩ ডলার ৭৩ সেন্টে। এছাড়া একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ২৫ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।

আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১৩ ডলার ৬৯ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ ফেব্রুয়ারির সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১৩ ডলার ৬৬ সেন্ট।

স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানান, শুক্রবার আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজির পরিবহন ব্যয় কমে দৈনিক ২০ হাজারে নেমে এসেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা নেমেছে দৈনিক ১৮ হাজার ৭৫০ ডলারে।

আরও